মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী –এর কার্যালয় এবং দেশটির বিমান বাহিনীর সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সোমবার (২ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাতে জানানো হয়েছে, অভিযানে ‘খাইবার’ নামের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন—এমন দাবির পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পাল্টা জবাব হিসেবে তেহরানও বিভিন্ন স্থানে হামলা অব্যাহত রেখেছে। বিভিন্ন সূত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির আহ্বান
সংঘাত নিরসনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট । এক টেলিফোনালাপে তাঁরা সামরিক পথ পরিহার করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সম্ভাব্য পরবর্তী নেতৃত্বের অনেকেই নিহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এই সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরানে কোনো মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েন নেই; তবে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি।
লেবানন, উপসাগরেও উত্তেজনা
লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাল্টা হামলার ঘোষণাও দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর মিলছে। কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সাইপ্রাসে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলার পর সাইরেন বাজানো হয়।
তেলের বাজারে প্রভাব
সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও পরে কিছুটা স্থিতিশীল হয়। এশিয়ার শেয়ারবাজারেও দরপতনের প্রবণতা দেখা গেছে।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও সামরিক উত্তেজনা এখনো প্রশমনের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়নি।



















































