কলকাতা/উটি/আয়মানাম — ভারতীয় লেখিকা অরুন্ধতী রায় তার শৈশবকে “বন্য, অসম্পূর্ণ ও পিতৃহীন” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বাবা-অভাব, মায়ের অসুস্থতা এবং অস্থির পরিবেশের মধ্যে তিনি বড় হয়েছেন।
১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের সময় সীমান্ত এলাকা ত্যাগ করে কলকাতা, এরপর ভারতের দক্ষিণে তামিলনাড়ুর উটাকামুন্ডে (উটি) পরিবারটি স্থায়ী হয়। উটিতে তারা একটি নানার কটেজে অবৈধভাবে বসবাস শুরু করেন। শৈশবকালীন এই অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে মা এককভাবে সন্তানদের লালন-পালন করেছেন।
উটির ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে মায়ের হাঁপানি ও অসুস্থতা পরিবারকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। সেই সময় স্থানীয় মানুষের এবং আত্মীয়দের সীমিত সাহায্যও একমাত্র আশ্রয় হয়ে দাঁড়ায়। রায় লিখেছেন, নদী, প্রকৃতি এবং একটি কাঠবিড়ালি তার মানসিক নিরাপত্তার প্রতীক ছিল।
পরিবারিক জটিলতা ও সামাজিক বাধার মধ্য দিয়ে তিনি জীবনের নানান শিক্ষা গ্রহণ করেন। এই অভিজ্ঞতাগুলো তার সাহিত্যকর্মে প্রকাশিত হয়েছে, বিশেষ করে ১৯৯৭ সালে তার প্রথম উপন্যাস “দ্য গড অফ স্মল থিংস”–এ, যা বুকার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়।
অরুন্ধতী রায়ের শৈশবের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যেখানে সবচেয়ে নিরাপদ মনে হয়, সেখানে বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে। সেই বিপদকে অতিক্রম করেই তিনি আত্মনির্ভর ও সাহিত্যিক স্বাতন্ত্র্য গড়ে তুলেছেন।






















































