বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিএনপির দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি তাদের পূর্বের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায় এবং কমিশনের কিছু সুপারিশের বিরুদ্ধে দৃঢ় আপত্তি তোলে। বিশেষ করে, সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি পরিবর্তনের বিষয়ে তারা অনড় অবস্থান প্রকাশ করে।
বিএনপি জানিয়েছে, কিছু সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তবে সেগুলো নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা করা হবে। আলোচনা চলাকালে সংবিধান সংশোধন, আইনসভা, মৌলিক অধিকার, এবং নারীর আসন সংরক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে মতবিনিময় হয়।
বিএনপি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থার নীতিগত পক্ষে থাকলেও আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির বিষয়ে একমত নয়। এছাড়া সংসদের মেয়াদ চার বছর করার প্রস্তাবেও তারা আপত্তি জানিয়েছে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে। তারা অর্থবিল, সংবিধান সংশোধন, আস্থা ভোট এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয় বাদে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতার পক্ষে মত দিয়েছে। তবে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় গণভোটের ব্যাপারে তারা সীমিত মতামত দিয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে সংস্কার কার্যক্রম চালানোর পক্ষে। তবে সংবিধান লঙ্ঘন না করে, আইনানুগ ও প্রক্রিয়াবদ্ধ উপায়ে বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তারা জোর দিয়েছে।
আলোচনায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বলেছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় সনদ প্রণয়ন জরুরি। তবে কিছু বিষয়ে মতানৈক্য থাকলেও, আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে উভয় পক্ষ জানিয়েছে।


















































